ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ববি হাজ্জাজকে ভোট দিতে চায় ৩৬.৮ শতাংশ ভোটার, মামুনুল হককে কত?

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হক। ছবি- সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজকে ভোট দিতে চান ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার। ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হককে ভোট দিতে চান ৩৪ শতাংশ ভোটার।  এ ছাড়া ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন এবং ১০ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা ও এডভোকেসি সংস্থা ‘সোচ্চার–টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’ পরিচালিত চার দলের প্রধান আসনের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমদ। এ সময় ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনের জরিপ ফল প্রকাশ করা হয়।

ড. শিব্বির আহমদ জানান, ঢাকা-১৩ আসনে মোট ৬০৬ জন ভোটারের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ববি হাজ্জাজকে সমর্থন করেন ৩৭ শতাংশ এবং মামুনুল হককে সমর্থন করেন ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে ববি হাজ্জাজের পক্ষে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মামুনুল হকের পক্ষে ৩২ দশমিক ৩ শতাংশ সমর্থন পাওয়া গেছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে মামুনুল হকের সমর্থন তুলনামূলক বেশি। তবে অন্যান্য বয়সী ভোটারদের মধ্যে ববি হাজ্জাজ এগিয়ে রয়েছেন। ১৮–২৫ বছর বয়সীদের ৩৪ শতাংশ, ২৬–৩৫ বয়সীদের ৩৮ শতাংশ, ৪৬–৫৫ বয়সীদের ৪০ শতাংশ এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৩৪ শতাংশ ববি হাজ্জাজকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিপরীতে একই বয়সভিত্তিক গ্রুপে মামুনুল হকের সমর্থন যথাক্রমে ২৯, ৩৬, ৩৪ ও ২২ শতাংশ।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে মামুনুল হকের সমর্থন তুলনামূলক বেশি হলেও অশিক্ষিত ও মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ববি হাজ্জাজ এগিয়ে রয়েছেন। অশিক্ষিত ভোটারদের ৫০ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষিতদের ৪৪ শতাংশ ববি হাজ্জাজকে ভোট দিতে চান। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিতদের ৩৫ শতাংশ মামুনুল হককে সমর্থন জানিয়েছেন।

পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে গৃহিণী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকরিজীবী, শ্রমিক, সরকারি চাকরিজীবী ও কৃষকদের মধ্যে ববি হাজ্জাজের সমর্থন বেশি দেখা গেছে। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মামুনুল হকের জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি। শ্রমিক, সরকারি চাকরিজীবী ও কৃষকদের মধ্যে উভয় প্রার্থীর সমর্থন প্রায় সমান।

কে জয়ী হবেন—এমন প্রশ্নে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, ববি হাজ্জাজ এই আসনে বিজয়ী হবেন। অপরদিকে ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন, মামুনুল হকের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। পুরুষদের মধ্যে ববি হাজ্জাজকে এগিয়ে দেখছেন ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে দুই প্রার্থীর সম্ভাবনা প্রায় সমান।

ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ড. শিব্বির আহমদ বলেন, অতীতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের জরিপ প্রকৃত ফলাফলের সঙ্গে উচ্চমাত্রার মিল দেখিয়েছে। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তাদের জরিপ প্রায় ৯৭ শতাংশ সঠিক ফলাফল পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি বলেন, এবারের জরিপও ভোটের ফলাফল বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

তিনি আরও জানান, চারটি আসনে মোট ২ হাজার ২৪১ জনের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে ৫১৫, ঢাকা-১৫ আসনে ৫১৪ এবং ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১১ আসনে ৬০৬ জন করে নমুনা নেওয়া হয়। জরিপটি গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯১ শতাংশ ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যেখানে পুরুষ ভোটারদের আগ্রহ নারীদের তুলনায় বেশি।