নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যানবাহনের সংকটকে পুঁজি করে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ‘এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেস’ নামের একটি বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়।
নিয়ম অনুযায়ী ফার্মগেট থেকে বনানী সৈনিক ক্লাব পর্যন্ত ভাড়া ১০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। একইভাবে উত্তরা, আজমপুর ও আব্দুল্লাহপুরগামী যাত্রীদের কাছ থেকেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাসটির কন্ডাক্টর উচ্চস্বরে বলেন, ‘বাড়তি ভাড়ায় যেতে চাইলে যাবেন, না চাইলে যাবেন না। এই সময় গাড়ি চালাইতেছি, এইডাই অনেক।’
বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রবিন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক না। তারা যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলেছে। আমাদের তো অফিসে যেতে হয়, তাই বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে এমন অনিয়ম করা ঠিক না।’
আরেক যাত্রী বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ি কম বলে কি ইচ্ছেমতো ভাড়া নেবে? সরকার কি ভাড়া বাড়িয়েছে?’
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে অনেকেই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও বাড়তি ভাড়া ও যানবাহন সংকটের কারণে সেই ইচ্ছা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানান যাত্রীরা।
এদিকে একসঙ্গে চার দিনের ছুটি ঘোষণার সুযোগে ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন গাজীপুরের পোশাক কারখানার হাজারো শ্রমিক। প্রায় সব কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর থেকেই চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকায় মহাসড়কে মানুষের ঢল নামে।
গতকাল সোমবার রাত থেকে চন্দ্রা, সফিপুর ও বারুইপাড়া এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
রাতভর অপেক্ষা করেও অনেক শ্রমিক যানবাহন পাননি। শ্রমিকদের অভিযোগ, সকালে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সুযোগ বুঝে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন।
এক গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, ‘আমরা ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু ভাড়া অনেক বেশি। আগে যেখানে ৭০০–৮০০ টাকা লাগত, এখন সেখানে ১২০০ টাকা চাচ্ছে।’
আরেক শ্রমিক জানান, ‘চার জন মিলে গাড়ি পাওয়াই যাচ্ছে না। ভাড়া বেশি, আবার সিটও নাই।’
শুধু সড়কপথেই নয়, রেলপথেও বেড়েছে ঘরমুখী মানুষের চাপ। জয়দেবপুর জংশন রেলস্টেশনে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সময়মতো ট্রেন না পাওয়া ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। দ্রুত অতিরিক্ত ট্রেন চালুর দাবি জানান তারা।
মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, চন্দ্রা দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী শিল্প কারখানার শ্রমিকদের যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে মহাসড়ক সচল রাখা এবং শ্রমিকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন