ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে কী করবেন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
প্রতীকী ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিনে যদি কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে দেখেন তার ভোট অন্য কেউ দিয়েছেন, তাহলে তার জন্য নির্বাচনি আইন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক ভোটার এই পরিস্থিতিতে ভোট না দিয়ে ফিরে যান, তবে আইন অনুযায়ী ‘টেন্ডার্ড ভোট’ নামে পরিচিত পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যদি ভোটার প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি নিজে ভোট দেননি এবং তার নামে অন্য কেউ ভোট দিয়েছে, তবে তিনি প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালট পেপার দাবি করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার ভোটারের নামে ব্যালট ইস্যু করবেন। তবে ভোটকেন্দ্রে এই ব্যালট বক্সে ফেলা হবে না, বরং আলাদা খামে রাখা হবে এবং গণনার আওতায় আসবে না। আইনের ভাষায় এ ভোটকে ‘টেন্ডার্ড ভোট’ বলা হয়। সাধারণ মানুষ মাঝে মাঝে এটিকে সান্ত্বনামূলক ভোট হিসেবেও মনে করে।

আরেকটি পরিস্থিতি হলো, ভোট দিতে গেলে পোলিং এজেন্ট দাবি করলে যে ভোটার ইতিমধ্যেই ভোট দিয়েছে অথবা যে ব্যক্তি ভোট দিতে চাচ্ছেন, তিনি সেই ব্যক্তি নন। তখন ভোটার আদালতে অভিযোগ প্রমাণের জন্য অঙ্গীকারপত্রে ১০০ টাকা নগদ জমা দেন। এরপর প্রিসাইডিং অফিসার ওই ব্যক্তির জন্য ব্যালট ইস্যু করেন। এই ব্যালট ‘আপত্তিকৃত ব্যালট’ হিসেবে আলাদা খামে রাখা হয়। যদিও টেন্ডার্ড ভোট গণনার আওতায় আসে না, আপত্তিকৃত ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এটি প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিটি প্রার্থী তার নির্বাচনি এলাকায় একজন নির্বাচনি এজেন্ট এবং প্রয়োজনমতো অতিরিক্ত পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন। নির্বাচনি এজেন্ট প্রার্থীর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত নোটিশ প্রদান করে নিয়োগ হয়। প্রয়োজনে এজেন্ট পরিবর্তন বা বাতিল করা সম্ভব।

পোলিং এজেন্ট নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রার্থী কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটার শনাক্তকরণের দায়িত্ব পালন করেন। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শনাক্তকরণের স্বার্থে ভোটারদের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোট দেশের ইতিহাসে একমাত্র ঘটনা। বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোনো স্থানীয় সরকার বা উপনির্বাচন আয়োজন করেনি। কমিশনের অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোট কেন্দ্রগুলোতে মক ভোটিং, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভোটারদের সচেতনভাবে ভোট দিতে এবং ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হলে তা প্রতিরোধ করতে বলা হয়েছে। টেন্ডার্ড ভোটের নিয়ম এবং নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত থাকা ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ভোটাররা নিশ্চিত হতে পারবেন যে তাদের ভোট সঠিকভাবে গণনায় প্রতিফলিত হচ্ছে।