ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতায় চাপে থাকা নিম্নআয় ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্যের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দিয়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও পরিবারভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ফ্যামিলি কার্ডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো:
- দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া
- মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করা
- সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
- নারীর হাতে আর্থিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত পরিবারগুলোকে মাসিক ভিত্তিতে নগদ অর্থ বা নির্ধারিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হতে পারে। সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর নামে প্রদান করা হবে, যাতে পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ে।
বিদ্যমান ভাতার চেয়ে বেশি সুবিধা
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন সামাজিক ভাতা কর্মসূচির তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে সহায়তার সুনির্দিষ্ট অঙ্ক, সময়সীমা ও বিতরণ পদ্ধতি পাইলট প্রকল্পের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।
সরকারের লক্ষ্য, একাধিক খাতে ছোট ছোট ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে পরিবারভিত্তিক সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করা।
কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগী কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
এই ডেটাবেসে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আয়, পেশা, বাসস্থান ও সামাজিক অবস্থাসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে—
- একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা নিতে পারবেন না
- প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্ত করা সহজ হবে
- দ্রুত ও সরাসরি অর্থ বিতরণ সম্ভব হবে
ডিজিটাল পদ্ধতিতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।
পাইলট প্রকল্প ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
প্রাথমিকভাবে দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই পর্যায়ে উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্য যাচাই ও অর্থ বিতরণ পদ্ধতি পরীক্ষা করা হবে।
পাইলট প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
আবেদন করতে যা যা লাগবে
যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবুও প্রাথমিকভাবে আগ্রহীদের নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে—
১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর
ভবিষ্যতে আয় সনদ, পরিবার সনদ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্রও লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কোথায় ও কীভাবে আবেদন করবেন
পাইলট প্রকল্প শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।
এ ছাড়া ঘরে বসেই আবেদন করার সুযোগ রাখতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। অনলাইনে আবেদন করলে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে আবেদনকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে কার্ড ইস্যু করা হবে।
প্রতি পরিবারে কেবল একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা বা নির্ধারিত পণ্য গ্রহণ করা যাবে।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন