ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিদায়ী নোটে পে-স্কেল নিয়ে সুখবর দিয়ে গেলেন অর্থ উপদেষ্টা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে না পারলেও সুখবর দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিদায়বেলায় নতুন অর্থমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে শক্ত সুপারিশ রেখে গেছেন তিনি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের ২৯ পৃষ্ঠার ‘উত্তরাধিকারী নোট’-এ তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

নোটে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেষ পে-স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রায় ১১ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রমপুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতি ১১১ শতাংশ বেড়েছে, যা সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় কমিয়ে দিয়েছে।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা নোটে উল্লেখ করেছেন, সরকারের আর্থিক ব্যয় কিছুটা বাড়লেও ক্রমপুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত আয় বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মান রক্ষার্থে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা জরুরি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নোটে দেশের অর্থনীতি, ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করেছেন। তিনি প্রস্তাব করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি একই সঙ্গে মুদ্রানীতি প্রণয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ-তদারকি চালিয়ে যায়, তা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম থেকে ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম’ আলাদা করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি পৃথক তদারক সংস্থা গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

উত্তরাধিকারী নোটে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) ভবিষ্যৎ করণীয়ের বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া আলাদা ব্যাংক রেজুলেশন কর্তৃপক্ষ, আমানত সুরক্ষা করপোরেশন এবং ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য আলাদা আইন প্রণয়নের পরামর্শও রয়েছে।

নোটে সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার অব্যাহত রাখা, উচ্চ অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্পে মনোযোগ দেওয়া এবং বেশি সুদের ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, অপচয় রোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, এনবিআর বিষয়ে নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে কর ফাঁকি ও কর অব্যাহতির সংস্কৃতি বিরাজ করছে। আয়কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় ডিজিটাইজেশন অপর্যাপ্ত এবং কর আদায়ে ন্যায্যতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অংশে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশের ঋণের সুদের হার বেড়েছে এবং ঋণ পরিশোধের সময় কমেছে। তাই ঋণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকল্প বাছাইতে সতর্কতা প্রয়োজন। জলবায়ু অভিযোজন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন অংশীদার খোঁজার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের বিদায়ী নোটটি নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।