ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। এমন পরিস্থিতে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আর এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক এখন দেশজুড়ে। এমন পরিস্থিতে দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে। উদ্বিগ্ন হয়ে মজুত না করে, যার যতটুকু প্রয়োজন তাই কিনুন বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তবে দেশে কি পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ আছে? কত দিন চলতে পারবে দেশ?- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (BPC) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ডিজেল ১৪ দিন, অকটেন ২৮ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন, ফার্নেস ৯৩ দিন ও জেড ফুয়েল ৫৫ দিনের মজুদ রয়েছে।
মো. রেজানুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মাথায় রেখে সরকার তেলের বিকল্প বাজার খোঁজার পরিকল্পনা করছে। তবে বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় এখনই তেলের দাম বৃদ্ধির (Fuel কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে এই মজুদ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয়।
শুক্রবার ( ৬ মার্চ) এক নির্দেশনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলারেরা বিগত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
এতে বলা হয়েছে, কিছু কিছু ভোক্তা ও ডিলার ফিলিং স্টেশন হতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসিসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে। নিয়মিতভাবে চালান দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারা দেশের সকল ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগণ/ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুত) গড়ে উঠবে।
এতে বলা হয়েছে, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।
নির্দেশনায় জ্বালানি তেল সরবরাহ গ্রহণ/প্রদানের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্তগুলো হল-
১. ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় ভোক্তাকে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে।
২. ফিলিং স্টেশন থেকে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ/বিল প্রদর্শন করতে হবে।
৩. ডিলাররা বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে।
৪. ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে।
৫. তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহ দেওয়ার পূর্বে বর্তমান বরাদ্দের আলোকে মজুত ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করবে, কোনোভাবেই বরাদ্দের বেশি দেওয়া যাবে না।

-20260306183320.webp)

