ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

১১৬ টাকার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়

আব্দুর রাজ্জাক
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ছবি এআই দিয়ে তৈরি।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের জ্বালানি খাতে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এই অস্থিতিশীলতার মাঝে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে এ আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে মানুষ ভিড় করছে ফিলিং স্টেশনে। আর এই সুযোগে খোলাবাজারে ১১৬ টাকার পেট্রোল অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মোহাম্মাদপুর, ও মিরপুর এলাকার বেশ কিছু জায়গায় অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি এড়াতে কিছু মানুষ এই দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা চড়া দামে কিনে নিচ্ছেন পেট্রোল।

বেসরকারি চাকরিজীবী মো. ইয়াসিন আলী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে পাওয়া যায় দুই লিটার তেল। বাধ্য হয়ে খোলা বাজারে ১১৬ টাকার  পেট্রোল নিতে হলো ২৫০ টাকা লিটার।’

আরিয়ান আহমেদ নামে আরেকজন মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সকাল থেকে তিনটা পাম্প ঘুরে তেল পাইনি। শেষ পর্যন্ত খোলা বাজার থেকে ২২০ টাকা লিটারে পেট্রোল কিনতে হলো।’

অবৈধভাবে খোলাবাজারে তেল বিক্রি করা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বাজারে তেল নেই, আমাদের অন্যভাবে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। লিটার প্রতি পাইকারি ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে।’

তারা আরও বলেন, ‘২২০ টাকার নিচে আমরা বিক্রি করতে পারছি না। বাড়তি দামে কেউ (চালকরা) নিলে নিবে, না হয় চলে যাবে।’

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদাই পরিস্থিতিকে বেশি চাপের মধ্যে ফেলছে। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।