ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় মশার আতঙ্ক, বাড়তি নজরদারির তাগিদ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন আগেই গ্রামের লোকজন রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। তবে একই সময়ে সড়ক ও বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা মশার প্রজননের আবাসস্থল হয়ে উঠেছে, যা ছুটি শেষে ফেরা নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের বাড়তি নজরদারি ও ব্যক্তিগত সচেতনতা ছাড়া সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির জুরাইন এলাকায় দেখা যায়, ঘরে ঘরে মশার কয়েল জ্বলছে, তবু কামড় থেকে মুক্তি নেই। নর্দমা, রাস্তা ও খালের ময়লা জমে থাকায় মশার উপদ্রব মৌসুমের আগেই বেড়েছে কয়েক গুণ। বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঝাঁকে ঝাঁকে মশা থাকলেও তৎপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই।

ঢাকা উত্তরের আফতাবনগর, হাতিরঝিল, দক্ষিণখান, গুলশানসহ এলাকায়ও নালা-নর্দমা বন্ধ হয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। স্থানীয়রা জানান, মশার কারণে কাজ এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

ঈদের ছুটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ বন্ধ থাকার কারণে শহর ফাঁকা থাকায় মশা আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, তারা এক সপ্তাহের মতো ছুটি পাবেন।

ঢাকায় মশার প্রায় ৯২ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মার্চে আরও বাড়তে পারে। কীটতত্ত্ববিদরা জরুরি লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমের তাগিদ দিচ্ছেন।

কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, গত পাঁচ বছরে আমরা এত ঘনত্বের মশা পাইনি। একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি হলো মশার লার্ভার মৃত্যু নিশ্চিত করা।

ঈদের ছুটিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ১০টি অঞ্চলে ইমার্জেন্সি টিম এবং মনিটরিং টিম নিয়ে কাজ চালাবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সব সময় ছুটি হয় না। আমরা মশার ওষুধ প্রয়োগ বাড়াচ্ছি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিটি টিমের হেড নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্টও বসবে। নাগরিকদের সুবিধার জন্য যতটুকু সম্ভব করা হবে।

তবে সিটি করপোরেশন সতর্ক করেছেন, মশা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।