ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আকাশপথ বন্ধ। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ১৭ দিনে ৫২৮ ফ্লাইট বাতিল করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ৪ মার্চ ৩২টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপর ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৬টি এবং ১৫ মার্চ ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট এই নিরাপত্তা সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিপাকে পড়েছেন। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেবিচক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা পুনরায় চালু হওয়া মাত্রই ফ্লাইট শিডিউল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।


