ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার, আর্থিক সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, স্ক্যাম ও ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে চাই। দেশের সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনসহ সব গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে তা সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে, যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পুলিশ সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে মন্ত্রীর কাছে জানতে চান এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সংসদসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত (১৬-১৭ মার্চ ২০২৬) গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, স্ক্যাম বা ডিজিটাল প্রতারণা বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে দমন করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রদূতও ডিজিটাল প্রতারণাকে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদ অল্প পরিমাণে থাকতে পারে, তবে তা কখনোই সন্ত্রাসবাদের রূপ নেয়নি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এইউটি) এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রদূত একমত হয়ে বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সামগ্রিক সংস্কার খাতে সুইজারল্যান্ড তাদের সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পারে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ‘ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ (ইএনডিসি)-এর দক্ষিণ এশীয়বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।