× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

দেশে ডিজেল সর্বাধিক ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং প্রায় সম্পূর্ণ জ্বালানি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৬৮ লাখ টন পেট্রোলিয়াম ব্যবহার হয়েছে, এর মধ্যে ৪৩ দশমিক ৫ লাখ টনই ছিল ডিজেল। নতুন এই আমদানির মাধ্যমে দেশের প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি পৃথক প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি এই তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড থেকে ১ লাখ টন এবং সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড থেকে ২ লাখ টন ডিজেল আমদানি করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিলম্ব এড়াতে সরাসরি ক্রয়ের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেছেন, তেল উৎপাদনকারী ও ট্রানজিট অঞ্চলে সংঘাত বাড়ায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা দাম বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই সময়মতো জ্বালানি সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জিরো কার্বন অ্যানালিটিক্স (জেডসিএ)-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় করে। এই ব্যয় বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চলমান সরবরাহ উদ্বেগের মধ্যেই ৩০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে, যাতে ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানায়, এসব জ্বালানি পরিবহন, শিল্পখাত এবং বিমান চলাচলে ব্যবহার করা হবে।

এদিকে দেশের জ্বালানি মজুত দ্রুত কমে আসছে। বর্তমানে ডিজেলের মজুত ১১ থেকে ১২ দিনের জন্য রয়েছে। অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েলের মজুতও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। সেচ মৌসুম চলায় ডিজেলের দৈনিক চাহিদা বেড়ে ১২ হাজার ৭০০ টনে পৌঁছেছে, যা সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত থাকলেও নতুন চালান বিলম্বিত হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার আশা করছে, জরুরি ভিত্তিতে এই আমদানি সম্পন্ন হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।

Link copied!