× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আসাদুজ্জামান তপন

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

আকাশপথের ভাড়া আকাশ ছুঁয়েছে

আসাদুজ্জামান তপন

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের আকাশপথের ভাড়া কার্যত আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় দেড় হাজার এবং আন্তর্জাতিক রুটে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি যেমন বেড়েছে, তেমনি আকাশপথে ভ্রমণ এখন অনেকের জন্যই বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে যাত্রীদের ওপর। যারা নিয়মিত কাজ, ব্যবসা বা চিকিৎসার প্রয়োজনে বিমান ব্যবহার করতেন, তারা এখন বিকল্প পরিবহন খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আকাশপথে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো খাতকে দুর্বল করে দিতে পারে।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু যাত্রীরাই নয়, বিপাকে পড়বেন এয়ারলাইনস মালিকরাও। জ্বালানির বাড়তি খরচ সামাল দিতে ভাড়া বাড়ালেও যাত্রী কমে গেলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমানো বা বন্ধ করার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন যাত্রীসেবা ব্যাহত হবে, অন্যদিকে বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানির বাজারে ওঠানামা থাকলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ব্যতিক্রম। ভারত ও নেপালে জেট ফুয়েলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বাংলাদেশে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাকিস্তান ও মালদ্বীপে দাম বাড়লেও বাংলাদেশে সেই তুলনায় চারগুণ বেড়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেট ফুয়েলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি এয়ারলাইনসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পর্যটন খাতও এর বাইরে নয়। বিদেশি পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে পারেন। একইভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, কারণ বিমানের ভাড়া বেড়ে গেলে অনেকেই সড়ক বা রেলপথে ভ্রমণে ঝুঁকবেন।

এয়ারলাইনসগুলোর জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। জ্বালানির খরচ বাড়ার ফলে তাদের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কম লাভজনক বা কম যাত্রীসংখ্যার রুটগুলোতে ফ্লাইট কমানো বা পুরোপুরি বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, পাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক বেশি। দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে এবং প্রায় আগের দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

এ অবস্থায় বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর টিকে থাকা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান হলে অনেক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু বিমান খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, জেট ফুয়েলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এয়ারলাইনসগুলোর জন্য নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হলে খাতটি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হতে পারে। অন্যথায় আকাশপথের বাজার সংকুচিত হয়ে দেশের যোগাযোগ ও পর্যটন খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Link copied!