সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫ বাতিলের দাবিতে বিক্রি বন্ধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএফএ।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, এ নীতিমালা বাতিল না হলে সারা দেশে একযোগে সব সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাগণ কৃষকের কাছে সার বিক্রয়সহ সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের কাছে সংগঠনের নেতারা একাধিকবার লিখিতভাবে নীতিমালা-২০২৫ এর কার্যক্রম আপাতত স্থগিত ঘোষণা করে বিদ্যমান ২০০৯ নীতিমালা বহাল রেখে অধিকতর পর্যালোচনা ও সব অংশীদারের মতামত নিয়ে নতুন করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। কৃষিমন্ত্রী এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নিলে ডিলারদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ১১ মার্চ ২০ হাজার সার ডিলার মানববন্ধন করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ২ কর্মদিবসের মধ্যে সরকার তাদের ন্যায্য দাবি মেনে না নিলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে সার বিক্রয়, বিতরণ, উত্তোলন, সরবরাহ এবং পরিবহনসহ সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জনস্বার্থ বিরোধী নীতিমালা-২০২৫ এর কার্যক্রম শুরু হলে সারা দেশের ৪৬ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা দীর্ঘদিন যাবত তাদের ব্যবসায় বিনিয়োগের লাখ লাখ টাকা মাঠে অনাদায় রেখে বেকার ও নিঃস্ব হয়ে যাবে। যার ফলে কৃষি সেক্টরে বিরাট বিশৃঙ্খলা বিরাজ করার আশঙ্কা রয়েছে।
একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট অপরদিকে সার সংকট দেখা দিলে দেশে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা বিরাজ করার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ কৃষি সেক্টরে বিরাট বিশৃঙ্খলা ও সার সংকট নিরসনের জন্য সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায়, কঠোর আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এমন পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই তার সব দায়ভার বহন করতে হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম (যুগ্ম সচিব সংযুক্ত) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ এ নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পরিপত্রের অনুচ্ছেদ ২(ঙ) কার্যক্রমের সময় একমাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ ৩১ মার্চের পরিবর্তে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাব ডিলার বা খুচরা সার বিক্রেতাগণ পূর্বের নিয়মে সার ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন। তার সঙ্গে নীতিমালা অধিকতর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের পরপরই এ কমিটি তাদের সভা করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন