ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জনস্বাস্থ্য ও বাস্তবতার সমন্বয়; তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পুনর্মূল্যায়নে উদ্যোগ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
ই-সিগারেট। ছবি : সংগৃহীত

দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিতে পরিবর্তন আনতে ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। জনস্বাস্থ্য ও বাস্তবতার সমন্বয় করে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি খসড়া প্রস্তুত করছে, যেখানে ই-সিগারেট-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। খসড়াটি শিগগিরই লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডস্টা) দাবি করেছে, বিশ্বজুড়ে ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS) তামাক ক্ষতি হ্রাসের একটি স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংগঠনটি জানায়, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ধূমপানকে একটি নির্ভরতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ধূমপায়ীদের তা ছাড়তে সহায়তা প্রদান জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় ই-সিগারেটকে ধূমপান ত্যাগে সহায়ক একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একাধিক গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়, নিকোটিনযুক্ত ই-সিগারেট নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি যেমন প্যাচ বা গামের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে।

বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান বলেন, নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসে নীতিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ই-সিগারেট অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করছে। সুনির্দিষ্ট আইন ও নজরদারি থাকলে এ খাত থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। বয়স যাচাই, লাইসেন্সভিত্তিক বিক্রয়, বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ রোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ বয়স যাচাই, লাইসেন্সভিত্তিক বিক্রয়, বিজ্ঞাপন সীমাবদ্ধতা এবং কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশরোধ কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। বিপরীতে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বাজারকে অদৃশ্য করে দেয়, যেখানে কোনো তদারকি থাকে না ফলে অবৈধ কালোবাজার গড়ে ওঠে এবং পণ্য আরও সহজে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে তরুণদের হাতে পৌঁছে যায়। এই বাস্তবতায়, নিয়ন্ত্রিত কাঠামোই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিক কার্যকর ও টেকসই পথ।