বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের উপায় খোঁজেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ফ্রান্সের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে নগর অবকাঠামো, পানি সরবরাহ ও টেকসই উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত এজেন্স ফ্রঁসেজ দে দেভলপমঁ (এএফডি)-এর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের এলজিআরডি খাতে একটি প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার খাতে ফ্রান্স অন্যতম বৃহৎ দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার। চলমান ও পরিকল্পিত প্রকল্পসমূহে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন ইউরোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
আলোচনায় এএফডি-সমর্থিত বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যার মধ্যে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটি ঢাকার জন্য একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া সৈয়দাবাদ পানি শোধনাগার (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক, ফ্রান্স, জার্মানি ও ডেনমার্কের সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটির লক্ষ্য ঢাকার পানি শোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ফ্রান্সের চলমান সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং জলবায়ু অভিযোজন, নগর উন্নয়ন ও জনসেবা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি কারিগরি দক্ষতা বিনিময়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন