ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘আমরাই নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছি’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গে আলোচনায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষায়, আমরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য আব্দুল মালিকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে আব্দুল মালিক সিলেট অঞ্চলের বন্যা ও খরার সমস্যা তুলে ধরে বলেন, বর্ষা ও কালবৈশাখি মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বরাক নদীর প্রবাহে সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে রাস্তাঘাটসহ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বর্তমান পরিকল্পনা কী এবং পাহাড়ি ঢলের প্রভাব মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বিষয়টি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যাতে ভবিষ্যতে এ সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা যায়।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই ভারত টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প চালু করে। তার মতে, আমাদেরই আহ্বানে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ভারতের মণিপুর রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উজানে বরাক নদীর ওপর টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার লক্ষ্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদন। বরাক নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়, যা পরে মিলিত হয়ে মেঘনা নদীতে পরিণত হয়।

অতীতে এই প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাঁধ নির্মাণের ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পানিপ্রবাহ ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মিত হলেও বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমবে না এবং এতে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।