বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশে যেসব পুলিশ সুপারকে রাজনৈতিক বিবেচনায় সুপারনিউমারারি (সংখ্যা অতিরিক্ত পদ) এডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতি দিয়ে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে ১৭ জনকে এডিশনাল ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে। তবে পদায়ন করার ক্ষেত্রে মেধাতালিকা এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দ্বারা নির্যাতনের শিকার-এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ১৭ জনকে এডিশনাল ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদায়নকৃতরা হলেন: পিবিআইয়ে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এসবিতে কামরুল হাসান মাহমুদ, আরপিএমপিতে তোফায়েল আহমেদ, ডিএমপিতে যুগ্মকমিশনার সুফিয়ান আহমেদ, সিআইডিতে মুহাম্মদ বাছির উদ্দিন, এসবিতে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সিএমপিতে হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, পুলিশ সদর দপ্তরে মাহবুবুল করিম, আরএমপিতে মোঃ আল মামুন, পুলিশ সদর দপ্তরে মোহাঃ আসাদুজ্জামান, এসবিতে মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, পুলিশ স্টাফ কলেজে ড. আ, ক, ম, আকতারুজ্জামান বসুনিয়া, পুলিশ সদর দপ্তরে জাহাঙ্গীর আলম, পিবিআইতে আব্দুল্লাহ আল-মামুন, পুলিশ স্টাফ কলেজে আফরোজা পারভীন ও রেলওয়ে পুলিশে মোঃ তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পুলিশ শাখার সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ১৪০ জন পুলিশ সুপারকে সুপারনিউমারারি এডিশনাল ডিআইজি হিসাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এই তালিকায় ১ নম্বরে ছিলেন বর্তমান র্যাব প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন ধরে যারা পুলিশে কোনঠাসা ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতি ও পদায়ন শুরু হয়।
সূত্র জানায়, অন্তবর্তী সরকারের সময় ১৪০ জন এডিশনাল ডিআইজি সুপারনিউমারারি থেকে অন্তত ১২ জনকে এডিশনাল ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর পদোন্নতি বঞ্চিতদের তালিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়।
আজ বুধবার ১৭ জন এডিশনাল ডিআইজি পদে পদায়ন করার ক্ষেত্রে তালিকার ক্রম অনুসরণ করা হয়নি বলে পদায়ন বঞ্চিত একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেছেন, ১৭ জনের মধ্যে ১৫ জনই ২৪তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা। এই ১৫ জনকে পদায়ন করার ক্ষেত্রে মেধা তালিকা এবং পদোন্নতি বঞ্চিতদের তালিকা অনুসরণ করা হয়নি।
আরেক বঞ্চিত কর্মকর্তা বলেন, মেধা তালিকার ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর সিরিয়াল পদায়ন করার পর ৩১ নম্বর সিরিয়ালকে পদায়ন করা হয়েছে। এরপর ৩৭, ৪৪, ৪৭, ৫৯, ৭১, ৭৪, ৭৭, ৭৮, ৯১, ১১০ ও ১১৯ নম্বরের কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এডিশনাল ডিআইজি সুপারনিউমারি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত তালিকার ১৪০ জনের মধ্যে শতাধিক কর্মকর্তাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশের একটি বিশেষ গ্রুপ দ্বারা মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া তাদের সরকারি চাকরির ব্যক্তিগত ফাইলে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শ পোষণ করেন এমন মন্তব্য লেখা হয়েছিল। অথচ পদায়নের ক্ষেত্রে ওইসব বিষয় তো সামনে রাখা তো হয়নি, তার ওপর মেধা তালিকাও অনুসরণ করা হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন