উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ভর্তুকি খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতন কমিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও পরবর্তীতে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সেই অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন জরুরি খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
জানা গেছে, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাবদ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফলে সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, বেতন কমিশনের জন্য রাখা অর্থের প্রায় পুরো অংশই ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে এবং অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র অল্প পরিমাণ অর্থ।
অর্থ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে তেল, এলএনজি ও এলপিজি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে বাজেটের অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বেতন কমিশন বাস্তবায়ন পরিকল্পনায়।
একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য যে প্রস্তুতি ছিল বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক বাজেট কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
অর্থ বিভাগের আরেক সূত্রের মতে, চলতি অর্থবছরে এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ বাজেটের বড় অংশ ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ও জরুরি খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে।


