ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা, যা বলছে সরকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ধীরে ধীরে অগ্রগতি হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। সরকার বলছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আংশিক বাস্তবায়নের কথা ভাবা হলেও এখন তা পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬। কিছু ক্ষেত্রে জুন মাস থেকেই ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে। আসন্ন বাজেটে এ খাতে অতিরিক্ত ২২ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা বা তারও বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা কলমবিরতি, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপির মতো কর্মসূচি পালন করছে এবং দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি নতুন পে-স্কেলের অধীনে সময়কালীন উচ্চ গ্রেড সুবিধা নিয়ে ইতিবাচক রায় দিয়েছে, যা বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।