ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মায়ের দুধের বিকল্প নেই, পুষ্টি সচেতনতা জোরদারের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

মায়ের দুধের পুষ্টিগুণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, শুধু ভিটামিন বা সম্পূরক খাদ্য দিয়ে একটি সুস্থ জাতি গঠন সম্ভব নয়। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের ভূমিকা অনন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি ভিটামিন বা একটি ফাইল ওষুধ খেয়ে জীবন চলে না। কিন্তু মায়ের দুধ এমন একটি প্রাকৃতিক পুষ্টি, যা শিশুর শরীরের গঠন তৈরি করে এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।

তিনি জানান, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলস্ট্রাম) খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে অনেক মা বুকের দুধ খাওয়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক।

গ্রামীণ নারীরা এখনো দুই বছর পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান, কিন্তু শহুরে ও শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে এই প্রবণতা কমছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ এবং এরপর দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার দেওয়া উচিত। পুষ্টিকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সবকিছু ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। পুষ্টি মানেই শুধু শরীর নয়, এটি মেধা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিরও শক্তি।

দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে জটিলতা বাড়ছে। তাই পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং মায়ের দুধ নিশ্চিত করা জরুরি। অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, শুধু সেমিনার বা কাগজে-কলমে নয়, পুষ্টি বার্তাগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, পুষ্টিকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিতে হবে। ফাস্টফুড নির্ভরতা কমিয়ে শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ সুষম খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।