ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

পে-স্কেল সত্যিই বাস্তবায়ন হবে, যা বলছে সরকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিনটি বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি। চলতি বাজেটে এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্তও প্রক্রিয়াধীন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ খতিয়ে দেখেছে, এ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রকাশিত খবরে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৬ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি বৃহৎ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।

শুক্রবার (১ মে) রূপালী বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক।

সত্যিই কি বাস্তবায়ন হবে পে-স্কেল?

পে-স্কেল নিয়ে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশ হলেও এখনো সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে গত ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে তিতুমীর বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে। সচিব কমিটি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সচিব কমিটিই মূল পর্যালোচনার দায়িত্ব পালন করে। এবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পে-স্কেল পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটি এরই মধ্যে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রতিবেদন বা সুপারিশ জমা দিয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য এখনো রূপালী বাংলাদেশের হাতে পৌঁছায়নি।

গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার।

জানা গেছে, এই সুপারিশের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা এবং দেশের ভেতরকার আর্থিক চাপ বিবেচনায় নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে সরকারপক্ষ থেকে একাধিকবার ধোঁয়াশাময় মন্তব্য এসেছে। ফলে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, পে-স্কেল সংক্রান্ত পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে তবেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন পে-স্কেলের দাবি আছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে এটি করে গেছে।