সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বেতন কমিশন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে এই কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যেমন রয়েছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, তেমনি বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা। বিশেষ করে নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে-স্কেল পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে এর অর্থায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। অভিযোগ উঠেছে, পে-স্কেলের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ফ্যামিলি কার্ড ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সরকারের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পে-স্কেলের সুপারিশ এবং প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ না দেখে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। তাই ট্যাক্স রেভিনিউ এবং সামগ্রিক অর্থনীতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে আন্দোলন করে আসা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেট সামনে রেখে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারের নজরে কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্বসহকারে নেওয়ার জন্য ৮ মে পটুয়াখালী, ৯ মে খুলনায় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা হবে। সর্বশেষ ১৬ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা করা হবে।

-20260429114907.webp)

