যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ স্থানীয় ফিউনারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। আগামী ৬ মে জানাজার পর বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা যায়।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বেলা দুইটার দিকে টাম্পা বে এলাকায় ইসলামি সোসাইটিতে লিমনের জানাজা হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির লোকজন জানাজায় শরিক হয়েছিলেন।
শনিবার (২ মে) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি উড়োজাহাজে লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবার উড়োজাহাজটি দুবাই হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার দুই দিন পর ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় কয়েকজন মাছশিকারি কায়াক চালানোর সময় একটি কালো রঙের পলিথিন দেখতে পান। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যেখানে লিমনের মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে, এলাকাটি এর কাছেই। পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর মরদেহের খণ্ডিত অংশ দেখতে পায়। তবে খণ্ডিত অংশগুলো এমন অবস্থায় ছিল যে পুলিশ সেগুলো শনাক্ত করতে পারছিল না। গত ৩০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এসে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত অংশ বৃষ্টির।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুঘরবেহ লিমনের রুমমেট ছিলেন।
এদিকে জামিল ও বৃষ্টির খুনের ঘটনায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ক্যাম্পাসজুড়ে এখনও চলছে শোক। স্মরণসভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃষ্টি ও জামিলের সহপাঠী এবং বন্ধুরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে থাকা উভয় পরিবারের সহায়তায় গোফান্ডমিতে খোলা একাউন্টে ইতোমধ্যে পৌনে দুই লাখ ডলার জমা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও শিক্ষকরা আশা করছেন দুটি পরিবারের হাতে এক লাখ ডলার করে তু্লে দিতে পারবেন তারা।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন