ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন শঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে ৯ নদী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ৯টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় কিছুটা উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কেন্দ্রটির নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান বলেন, বর্তমানে ১১টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও নতুন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে।

তবে সিলেট অঞ্চলে কিছুটা শঙ্কা রয়ে গেছে। কালনি-কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থার নতুন কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও হবিগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব এলাকার জন্য আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোথাও কোথাও নতুন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও সেটিকে সার্বিক অবনতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ অনেক নিম্নাঞ্চলে আগেই পানি জমে থাকায় নতুন করে বিপৎসীমা অতিক্রমের প্রভাব সব ক্ষেত্রে সমানভাবে পড়ে না।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নয়টি নদী ১১টি পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে রয়েছে— কুশিয়ারা নদী (ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি), নালজুর নদী (জগন্নাথপুর), বাউলাই নদী (খালিয়াজুরী), ভুগাই-কংস (জারিয়াজাঞ্জাইল), সোমেশ্বরী (কলমাকান্দা), মগরা (নেত্রকোনা ও আটপাড়া), কালনি-কুশিয়ারা (আজমেরিগঞ্জ), সুতাং (রেলওয়ে সেতু) এবং মনু নদী (মৌলভীবাজার)।

গত ২৪ ঘণ্টায় উজান ও দেশের অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী একদিন হালকা থেকে মাঝারি এবং পরবর্তী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন ধীরগতিতে বাড়তে পারে, ফলে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। অন্যদিকে নেত্রকোনার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে, ফলে সেখানে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এছাড়া নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের ধনু-বাউলাই অববাহিকাতেও পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। মৌলভীবাজারে মনু নদীর পানি একদিন বাড়ার পর স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং জুড়ি নদীর পানি পরবর্তী দিনগুলোতে বাড়তে পারে।