ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বেদখল খাসজমি উদ্ধারে ডিসিদের নির্দেশ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ৫, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু

সারাদেশে বেদখল হওয়া খাসজমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের সপ্তম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। অধিবেশনটি ছিল ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত।

বেদখল খাসজমি উদ্ধারে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। খাসজমি বাংলাদেশের সরকারি সম্পত্তি। এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও দখলমুক্ত করতে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। গত ১৭ বছরে এ ধরনের দখল অনেক বেড়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব জমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং সে অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার উদ্যোগ আছে কি না—জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি একই ছাতার নিচে আনার চেষ্টা চলছে। অতীতে এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ছিল। পুনরায় সেই কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

ভূমি খাতে দুর্নীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অবগত। দেশবাসীও জানে। আমরা বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যে-ই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

আগামী ১৯ মে প্রধানমন্ত্রী ভূমি মেলা উদ্বোধন করবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণকে সচেতন করা এবং দালালচক্রের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে সেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে,’ বলেন তিনি।

এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগ ঠিকভাবে প্রচার হচ্ছে না। ফলে মানুষ অনেক সময় সেবা নিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছে, যদিও এখন অনেক সেবা সম্পূর্ণ অটোমেটেড। আমরা পুরো ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত (ইন্টিগ্রেটেড) প্ল্যাটফর্মে আনতে কাজ করছি, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ না থাকে।’

সেবা গ্রহণে ভোগান্তি প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রক্রিয়াগুলো আরও ত্রুটিমুক্ত করছি। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, এটি আইন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। অনেকেই বিষয়টি জানেন না। ফলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো সমস্যা হলে মানুষ তা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সেবার ঘাটতি হিসেবে ধরে নেয়।’