বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা ও চাকরির উদ্দেশ্যে ভিসা আবেদনকারীদের জমা দেওয়া ব্যাংকসংক্রান্ত নথি যাচাই আরো নির্ভরযোগ্য করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ভিসার জন্য ব্যবহৃত ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি সার্টিফিকেট এবং ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেটে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে যাচাইযোগ্য কিউআর কোড যুক্ত করতে হবে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদেশি দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারগুলোতে ভিসা আবেদনের সময় আবেদনকারীদের বিভিন্ন আর্থিক নথি জমা দিতে হয়। কিন্তু এসব কাগজ তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার কার্যকর পদ্ধতি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নথির সত্যতা দ্রুত নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক ঝামেলা কমানো এবং ভিসা প্রক্রিয়ার সময় হ্রাস করতে ডিজিটাল যাচাইব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কিউআর কোড স্ক্যান করলে অন্তত পাঁচটি তথ্য যাচাই করা যাবে। এগুলোর মধ্যে থাকবে অ্যাকাউন্ট নম্বর, হিসাবধারীর নাম, স্টেটমেন্টের শুরুর স্থিতি, শেষ স্থিতি এবং স্টেটমেন্ট প্রস্তুতের তারিখ।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে এসব তথ্য ন্যূনতম ছয় মাস সংরক্ষণ ও অনলাইনে যাচাইযোগ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্কুলার জারির ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো চালু করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
সম্প্রতি ভিসা আবেদনে জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ভুয়া আর্থিক নথি ব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারগুলো সহজেই অনলাইনে নথির সত্যতা যাচাই করতে পারবে। এতে জালিয়াতি কমবে এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন