ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সচেতনতা ও বিন বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর মিরপুরের এমডিসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আবেগ ও স্মৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি নিজেও এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এই মাঠ, এই গাছপালা, এই ক্যাম্পাস আমার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি বহন করে। আমরা এখানে দুষ্টুমি করেছি, ক্লাস ফাঁকি দিয়েছি, আবার শিক্ষকদের কাছ থেকে শাসনও পেয়েছি। আজ সেই প্রতিষ্ঠানেই দায়িত্বশীল একজন প্রতিনিধি হিসেবে এসে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে স্বপ্ন দেখছেন—পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা—তা বাস্তবায়নে ডিএনসিসি কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবুজ ও হলুদ রঙের পৃথক দুটি বিন ব্যবহার করে বর্জ্য আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবুজ বিনে রাখা হবে রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট খাবার, মাছ-মাংসের বর্জ্য, শাকসবজির খোসা, পাতা ও জৈব বর্জ্য। অন্যদিকে হলুদ বিনে রাখা হবে প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট, কাগজ, কার্টুন, ধাতব ক্যান ও কাচজাতীয় বর্জ্য।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিদিন রাজধানী থেকে হাজার হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহ করে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়। কিন্তু এভাবে বছরের পর বছর বর্জ্য ফেলা হলে একসময় জায়গার সংকট দেখা দেবে। তাই সরকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেলেই এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি জানান, ডিএনসিসির কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কাজ করছে। কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণেও বড় ধরনের জলাবদ্ধতা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধও গড়ে তুলতে হবে। পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তোমরা বাসায় গিয়ে মা-বাবাকে বলবে যেন কেউ রাস্তায় ময়লা না ফেলে। রান্নাঘরের বর্জ্য নির্দিষ্ট বিনে রাখা হয়। তোমরাই আগামী দিনের পরিবর্তনের দূত।
তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল ও সড়কের ডিভাইডারে এসব গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় ছোট ছোট সবুজ উন্মুক্ত স্থান তৈরি করে শিশুদের খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি এম ডি সি মডেল ও পল্লবী থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামাল হোসেন খান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে এবং দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কামাল হোসেন খান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে হয়তো বাংলাদেশ নামে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা আরও কঠিন হয়ে যেত।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার এই ত্যাগ ও নেতৃত্বের কারণেই তাকে ঢাকা শহরকে আরও আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক কমডোর হুমায়ূন কবির, অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক আরিফুর রহমান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জালালউদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


