বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় চায় এ মন্ত্রণালয় থেকে গবেষণার কাজে অনুদান প্রাপ্ত গবেষকরা এমন কিছু কাজ করুক যার ফলাফল মানুষকে টাচ বা স্পর্শ করে, মানুষের জীবনমানে ইতিবাচকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। মানুষ যেন বুঝতে পারে এ ধরনের গবেষণায় একটা ফলন আছে। তিনি বলেন, গবেষণায় এমন কিছু কাজ হোক যার ফলাফল মানুষের কাছে পোঁছে যেতে পারে। গবেষণা যেন দৃশ্যমান হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বুধবার (০৩ জুন) ঢাকায় বিসিএসআরআই ক্যাম্পাসে অবস্থিত বাংলাদেশ রেফারেন্স ইন্সটিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস্ (বিআরআইসিএম) মিলনায়তনে ‘বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রাপ্ত প্রকল্পঃ ফলাফল ও প্রয়োগ’ শীর্ষক সেমিনারে অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এখানে ১৮ কোটি মানুষের বাজার আছে। এখানে গবেষণার যথেষ্ট সুযোগ আছে। গবেষণার ইস্যু/টপিকটা নির্ধারণ করতে হবে সামাজিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করে এবং গবেষণা সেক্টর স্পেসিফিক হতে হবে।
গবেষকদের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আরও বলেন, আপনারা কোন গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেবেন দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি আপনাদেরকে বুঝতে হবে। কোন গবেষণাটার কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি আছে, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে এটি আপনাদেরকে গবেষণা করার আগেই ভালো করে বুঝতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা চাই যে গবেষণালব্ধ যে জ্ঞান সেটা যেন পরবর্তী ধাপে মার্কেটাইজ বা বাজারজাত করতে পারি এবং মানুষের কাছে আমরা পৌঁছাতে পারি। গবেষণার সাথে বাজারের একটা সংযোগ তৈরি করাটা এক্ষেত্রে জরুরি বলে তিনি তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ রেফারেন্স ইন্সটিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস্ (বিআরআইসিএম) এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি এর মহাপরিচালক ড. মো. সগির আহমেদ, বিসিএসআইআর এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ, আইসিডিডিআরবি এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ প্রমুখ।
সেমিনারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় হতে বিশেষ গবেষণায় অনুদান প্রাপ্ত গবেষকদের মধ্যে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ও গবেষক ড. মো. আব্দুল করিম, বুয়েটের অধ্যাপক ও গবেষক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল বাসিথ, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক প্রফেসর ড. মো. ফারুক হাসান প্রমুখ তাদের সেমিনার পেপার/গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বিশেষ গবেষণা ক্ষেত্রে অনুদানপ্রাপ্ত বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকগণ ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন