× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

সংবাদ সম্মেলন পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলন পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত

জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি আত্মসাৎ করা অর্থ অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রমে বিনিয়োগ করত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল বিকেলে দোকানে থাকা অবস্থায় সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা এলাকার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মোবাইল চালু হলে তিনি দেখতে পান তার ব্যবহৃত বিকাশ, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংকিং অ্যাপস মোবাইল থেকে উধাও হয়ে গেছে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ইউসিবি ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ-নগদ নম্বরে স্থানান্তর করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তিনি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের শিকার হয়েছেন।

এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম জেলা ডিবি তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. ইকবালসহ অন্যান্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির প্রধান মো. ইকবালসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন, ১৮টি বিকাশ নিবন্ধিত সিম, আটটি ব্যাংক চেক বই, তিনটি ব্যাংক কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের জিমেইল ও অন্যান্য অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করত। এরপর ব্যাংকিং ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অর্থ স্থানান্তর করত। আত্মসাৎ করা অর্থ একাধিক ধাপে স্থানান্তরের মাধ্যমে গোপন করে পরে অনলাইন জুয়া, গরুর ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতো।

তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। চক্রের প্রধান ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় একই ধরনের অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সহযোগী রুবেলের বিরুদ্ধেও প্রতারণার মামলা রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ও সিম সংগ্রহ করত। পরে এসব হিসাব ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন পরিচালনা এবং বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ উত্তোলন করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করত।

এদিকে, সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নাগরিকদের জিমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী ও পৃথক পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখা, OTP ও পাসওয়ার্ড গোপন রাখা এবং অপরিচিত লিংক বা রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধে জনসচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। কোনো ব্যক্তি সাইবার অপরাধ বা অনলাইন প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!