ঢাকা রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

আজ শুরু হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ফাইল ছবি। সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলতি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ (৭ জুন) বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৩০ জুন তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আহ্বানের পর থেকেই প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়। অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাজেট অধিবেশন কতদিন চলবে এবং কোন কোন বিষয় আলোচনায় থাকবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অবশিষ্ট অর্থের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাদ্য সহায়তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি, কৃষি উপকরণ, রপ্তানি সহায়তা এবং রেমিট্যান্স উৎসাহিত করতে এসব বরাদ্দ ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার আমদানিতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হবে বলে মনে করছে সরকার।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে বাজেট ঘাটতি ও ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে। যদিও আগের ঋণ কর্মসূচি অব্যাহত না থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবুও নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের জন্য বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে আবেদন করেছে।

আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা বাবদ মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা বেশি। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এ বৃদ্ধি প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা, সার আমদানিতে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এলএনজি আমদানির জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ সংরক্ষিত থাকবে।

অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং কৃষি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খাদ্য ভর্তুকি খাতে আগামী অর্থবছরে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় কিছুটা কম।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওএমএস, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ওপর নির্ভরতা কমানো হবে।

অন্যদিকে বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহ দিতে রেমিট্যান্স প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এ ছাড়া বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা প্রদানের জন্য ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের সমপরিমাণ।