ঢাকা রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

আলোচিত রায়ের অপেক্ষায় দেশ, আদালতে সোহেল-স্বপ্না

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলার রায় ঘোষণার আগে তাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে আনা হলো।

রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে সোহেল রানাকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের হাজতে রাখা হয়।

এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মামলার অপর আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত দুজনই হাজতখানায় অবস্থান করছেন।

আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।

গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত আজকের দিন রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন। মাত্র চার কার্যদিবসে মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এর আগে ১ জুন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ওই দিনই ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। পরদিন ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন দুই আসামি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। পরে স্কুলে যাওয়ার সময় হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেলের বাসার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।