দুই দিনের সফরে আগামী ১৩ জুন কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রকাশিত সম্ভাব্য কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৩ জুন (শনিবার) রাত ৮টায় আকাশপথে কক্সবাজার পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি কক্সবাজার সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৪ জুন (রোববার) সকাল থেকে একাধিক উন্নয়নমূলক, সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী-মাছুয়াখালী এলাকায় খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে সেখানে আয়োজিত এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
দুপুর ১২টায় চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে ‘সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন করবেন তিনি। এ সময় সাফারি পার্কের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমও পরিদর্শন করবেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
দুপুর দেড়টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ মোনাজাতে শরিক হওয়ার কথা রয়েছে সরকারপ্রধানের। একই দিনে পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি চকরিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে সন্ধ্যা ৬টায় তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে রাত সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অথবা বিআইএএম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রাত ৯টায় আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন তিনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো পিএমখালীর পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি চালাবেন। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হবে। লাইসেন্সবিহীন ও সন্দেহজনক যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন