× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

মোংলায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলার নেপথ্যে কি?

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোংলায় জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলায় বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে করছে বাহিনীটি।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কোস্ট গার্ডের স্টেশনটিতে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় দায়িত্বরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হন।

কোস্ট গার্ড বলছে, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মতবিনিময়ে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকাটি বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি ‘ঘাঁটি’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপনের পর দস্যুদের কাছে রসদ, অস্ত্রসহ অন্যান্য সহায়তা-সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে বনদস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা এলাকাটিতে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না। এ কারণেই তারা হামলা চালায় বলে মনে করছে কোস্ট গার্ড।

ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, কোনো অপপ্রচার, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা এই বাহিনীকে দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আইন ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবনে সক্রিয় সব বনদস্যু-জলদস্যু বাহিনী নির্মূলসহ জেলে-বাওয়ালি-মৌয়াল-বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনায় কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মতবিনিময়ে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, অভিযান দুটি হলো-‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৩৯ জন বনদস্যু-জলদস্যুকে আটক করা হয়। তাদের হাত থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, কার্তুজ, ককটেল, টেলিস্কোপ, ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, বাহিনীটির ধারাবাহিক অভিযান, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারিসহ প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের কারণে সুন্দরবনের সক্রিয় দস্যুরা বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দস্যুরা এখন আর আগের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না। তাদের চলাচল, অস্ত্র সরবরাহ, অর্থ সংগ্রহসহ সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা কমে এসেছে। এই চাপের মুখে ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা গত ১৭ মে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। সুন্দরবনে সক্রিয় ডাকাতসহ দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের পুনর্বাসনসহ অন্যান্য বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল, নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশসহ অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। এ ছাড়া মোংলা সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড কাজ করছে বলে জানান তিনি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!