রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)-এর উদ্যোগে 'ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা, ইতিহাস বিকৃতি রোধ এবং একটি নিরপেক্ষ, পেশাদার ও জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর মহাখালীস্থ রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাওয়া সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হক (অব.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.)।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাওয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ আলম (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান (অব.), রাওয়া ভাইস চেয়ারম্যান মেজর নিয়াজ আহমেদ জাবের, রাওয়ার ক্রীড়া সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ড. মোহাম্মাদ হারুনুর রশিদ ভূইয়া (অব.), লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আজমি (অব.), জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আকবর কামাল (অব.), দৈনিক নয়া দিগন্তের যুগ্ম সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর, জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা, রাওয়া কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.) জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহত যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, "২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং বিগত সরকারের আমলের বঞ্চনা জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ভিত্তি ছিল।"
তিনি বলেন, আন্দোলনে রাজপথের ছাত্র-জনতার পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাহসী অংশগ্রহণ এবং প্রেসক্লাব, শহীদ মিনার, ডিওএইচএস ও রাওয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সোচ্চার ভূমিকা আন্দোলনকে গতি ও নৈতিক শক্তি জুগিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে একটি নিরপেক্ষ, পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত ও জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গঠনে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বৈষম্যের অবসান, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জাতীয় সংহতির মাধ্যমে অতীতের বিভাজন ভুলে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ভাতা, গুরুতর আহতদের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তথ্যভান্ডার (ডাটাবেজ) তৈরির মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হক (অব.) বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর ভূমিকা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের সংকটকালে সেনাবাহিনীর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশকে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছে। দুই-একজন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো বাহিনীকে দোষারোপ না করে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি অতীতের বিভাজন ও হানাহানি ভুলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আজমি (অব.) বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা ভুলে গেলে চলবে না, জুলাইয়ের মতো সংকট আবারও আসতে পারে। কিন্তু বর্তমানে আমরা আগের মতো ঐক্যবদ্ধ নই; বরং ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়ছি।
এ সময় তিনি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক 'ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কাউন্সিল' গঠনের উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, এই কাউন্সিলের লক্ষ্য হবে জাতীয় সংকটের সময়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। প্রয়োজনে দেশপ্রেমিক, অরাজনৈতিক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের কাছে গিয়ে জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার আহ্বান জানানো হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই চেতনা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন