ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সরবরাহ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এক ফোনালাপে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে নিজের ফেসবুক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোনাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সম্প্রতি কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁর পোস্টে আরও জানান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আজিয়াটার বিনিয়োগের অগ্রগতি এবং এমএমসি পোর্টের সঙ্গে সম্ভাব্য কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন সেই চিঠি হস্তান্তর করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে ঘাটতি রয়েছে, তা কমাতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এর আগে গত ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এলএনজি সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি এলএনজি নিয়ে আলোচনা চালানোর বিষয়টিও ছিল।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁর দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁরা তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দিতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ, অন্য কোনো উপায়ে সহযোগিতা করা সম্ভব হলেও সেটি জানাবেন।”

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মহেশখালীর বিকল এলএনজি টার্মিনালের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির আঞ্চলিক পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে জ্বালানি বিভাগের বৈঠক হয়েছে।

তিনি জানান, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুনের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় এবং টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে।

আগুনে টার্মিনালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্য পরিবহনকারী তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা মেরামতের কাজে যুক্ত রয়েছেন।

এ ছাড়া, জাপানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও জ্বালানি সহযোগিতা এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।