ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার পর তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। টেলিফোন আলাপের শুরুতেই ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূস বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদ এই হামলাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আমি ইতোমধ্যে কয়েকজন উপদেষ্টাসহ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছি। হামলাকারীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি হাদির পরিবারের প্রতি সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘হাদির চিকিৎসার সব ব্যয় সরকার বহন করবে। তার অবস্থা বিবেচনায় দেশে বা বিদেশে—যেখানে প্রয়োজন হবে—সেখানেই সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’
হাদি দেশের সামাজিক পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হাদি আমাদের সবার প্রিয় ও আপন মানুষ। তার সুস্থতা কামনায় আমরা দোয়া করছি। আশা করি খুব দ্রুতই তিনি আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।’
এর আগে, এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, যেন হামলায় জড়িত সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার সময় হাদির পেছনের রিকশায় ছিলেন তার সহযোগী মো. রাফি। রাফি বলেন, ‘জুমার নামাজ শেষে আমরা হাইকোর্টের দিকে আসছিলাম। বিজয়নগরে আসতেই দুটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে হাদি ভাইয়ের ওপর গুলি ছুড়ে চলে যায়। আমি ভাইয়ের পেছনের রিকশায় ছিলাম।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, বেলা ২টা ২৫ মিনিটে দুটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা আসে। তারা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ওসমান হাদি বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢামেকে তার মাথায় জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।


