ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্টন থানার ডিউটি অফিসার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) রকিবুল হাসান।
এএসআই রকিবুল হাসান বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তার এক আত্মীয় এ মামলার বাদী হয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন পল্টন থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইয়াসিন মিয়া।
এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্যে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক, বর্ডার দিয়ে মানুষ পাচারকারী চক্রের দুইজন এবং অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও অপর এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
এর আগে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহজনকভাবে আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, হত্যাচেষ্টা রহস্য উদঘাটনের জন্য হান্নানের রিমান্ড প্রয়োজন। মোটরসাইকেল কীভাবে সেখানে গেল, যেহেতু মালিক চালায়নি তখন। তবুও রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামির সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
এ সময় মোটরসাইকেল মালিক হান্নান শুনানিতে আদালতকে বলেন, ‘আমি এ হুন্ডাটি মিরপুর মাজার রোড থেকে কিনেছি। পরে অসুস্থ হওয়ায় সবাই বাইক চালাতে নিষেধ করে। এ কারণে বাইকটি বাসাতেই পড়েছিল। পরে বাইকটি একটি শোরুমে বিক্রি করি এবং নাম চেঞ্জ করে দেব বলি। তখন থেকে দু’মাস পরে চেঞ্জ করে দেওয়ার কথা। আমাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে বলছি, ভালো করে তদন্ত করেন। প্রয়োজনে ওই শোরুমে আমাকে নিয়ে যান, তাহলে সব সত্যি বের হবে।’
তখন বিচারক বলেন, তদন্তে সহযোগিতা করবেন। এরপর তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।


