ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে ডেকে যা বলল ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম
ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করল ভারত। ছবি- সংগৃহীত

ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করা হয়। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।

কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত জানায়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিএম) বি শ্যাম তাকে তলব করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশে ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির গভীর উদ্বেগ জানাতেই বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করা হয়।

এ সময় ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া কিছু চরমপন্থি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু চরমপন্থি মহল ভুয়া বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে, যা ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

ভারত অভিযোগ করে, এসব ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেনি এবং ভারতের সঙ্গে অর্থবহ কোনো তথ্যপ্রমাণও বিনিময় করা হয়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, যার ভিত্তি গড়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগ্রামে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ও পোস্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, এমনটাই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নয়াদিল্লির প্রত্যাশা বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সেখানে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভারতে অবস্থান করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়।

চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিবেচনায় বুধবার দুপুর ২টা থেকে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আইভ্যাক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার পর বাংলাদেশ একাধিকবার তার প্রত্যর্পণ চেয়েছে, তবে ভারত এখনো এ বিষয়ে সাড়া দেয়নি।