কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যু নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে কোস্টগার্ড। গত দুই মাসে কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযানে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭টি দেশীয় অস্ত্র, ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ ৩০ জন ডাকাত ও জলদস্যুকে আটক করা হয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বেশকিছু দিন যাবৎ কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যুদের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত ও জলদস্যুদের আটকের নিমিত্তে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার করেছে। এ ছাড়াও, আধুনিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ ও উচ্চগতি সম্পন্ন স্পিড বোটের মাধ্যমে টহল, আধুনিক র্যাডার ব্যবহার, Automatic Identification System (AIS), VHF, HF কমিউনিকেশন সিস্টেম ও GPS প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোস্টগার্ডের আওতাধীন নাফ নদী ও সমুদ্র সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের জলযান ও সন্দেহজনক গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ফলে গত দুই মাসে কোস্টগার্ডের একাধিক বিশেষ অভিযানে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭টি দেশীয় অস্ত্র, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ ৩০ জন ডাকাত ও জলদস্যুকে আটক করা হয়। এ ছাড়াও, ডাকাতের কবলে জিম্মি থাকা ৩২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বেইস চট্টগ্রাম, কোস্টগার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া, বিসিজি স্টেশন কক্সবাজার, মহেশখালী, মাতারবাড়ী, কুতুবদিয়া ও শাহপরীর সমন্বয়ে কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও তৎসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যু নির্মূলে এবং সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে দিনব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের সাগর, নদী পথ ও উপকূলের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


