ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাউফলে নারীদের হেনস্তার প্রতিবাদে মহিলাদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
নারীদের হেনস্তার প্রতিবাদে মহিলাদের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ নারীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে মহিলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে বাউফল সরকারি কলেজের সামনে সড়কে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। 

ডা. জাকিয়া ফারহানার নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে একপর্যায়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অংশ নেন।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাউফলের ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক নারীর অংশগ্রহণে এমন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আগে কখনো দেখা যায়নি।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আবার যদি আমাদের মা-বোনদের হেনস্তা করার দুঃসাহস করা হয়, তাহলে যেভাবে আমরা থানা ঘেরাও করেছি, ঠিক সেভাবেই বাউফলের জনগণ তাদের বাড়ি ও এলাকা ঘেরাও করবে। আমাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। জীবন বাজি রেখে হলেও আমরা তাদের সম্মান রক্ষা করব।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ৭১-এ আপনারা রাস্তায় নেমেছিলেন—বিজয় এসেছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নেমেছিলেন—বিজয় এসেছে। ২৪-এ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নেমে পতন ঘটিয়েছেন। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চন্দ্রদ্বীপে তাদের অন্তত ২৫ নেতাকর্মীকে কুপিয়ে ও মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। এমনকি তিন মাসের গর্ভবতী এক নারীর পেটে লাথি মেরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে বাউফলের জনগণ লং মার্চসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করে দোষীদের বেঁধে প্রশাসনের হাতে তুলে দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

মহিলা জামায়াতে ইসলামীর নেত্রী ডা. জাকিয়া ফারহানা বলেন, আমরা নারীরা জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছি, আমাদের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছি। অথচ বিপ্লবের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই আমাদের মা-বোনদের ওপর এমন বর্বরতা চালানো হচ্ছে। চন্দ্রদ্বীপ, দাসপাড়া ও ধুলিয়ায় নারীদের হিজাব টেনে খুলে নেওয়া হয়েছে, বোরকা খুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু নারীদের ওপর হামলা নয়, এটি মানবতার ওপর আঘাত।

তিনি প্রশাসনের নীরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে বলেন, আমরা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়েই ঘরে ফিরতে চাই। আগামী ১২ তারিখ জনগণ উপযুক্ত জবাব দেবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মহিলা বিভাগের উপজেলা সেক্রেটারি হেদারা বেগম, সহকারী সেক্রেটারি ফেরদৌসী বেগম, কর্মপরিষদ সদস্য রাহিবে বেগম, আফরোজা বেগম, শাহনাজ বেগম ও খাদিজা বেগমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ সময় কয়েক হাজার নারী নেতাকর্মী বিক্ষোভে অংশ নেন।