× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের এক মহাকাব্য রচিত হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫)।

একটি তারিখ, একটি দিন- একটি ইতিহাস! ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সাল বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে সংযোজিত হতে যাচ্ছে। এই দিনে ঢাকার মাটিতে পা রাখবেন দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি লন্ডন থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।

উল্লেখ্য, উপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদের বিভীষিকা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনার বটমূলের খোলা চত্বর থেকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ঘোষণা করেন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি ও কৃষক-শ্রমিক-জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের নায়ক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বারবার উচ্চারিত হবে।

২০২৪–২০২৫ সালের রাজনীতির সংকটময় মুহূর্তে নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনীতির তরুণ তুর্কি তারেক রহমানের দেশে আগমন নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেসব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি দেশে আসছেন।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গঠিত অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান এবং বাংলাদেশের রাজনীতির আরেক প্রবাদপুরুষ সালাহউদ্দিন আহমেদ। সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত অভ্যর্থনা কমিটির পাশাপাশি দুই হাজারেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ঢাকায় একটি শক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় নান্দনিক মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।

সমাবেশের দুই দিন আগেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে সচেতন মহলের ধারণা, ঢাকায় পঞ্চাশ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগমন ঘটতে পারে।

তার প্রত্যাবর্তনের সমাবেশের দুই দিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলে দলে ঢাকায় আসছেন। শুধু তাই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসেছেন।

দেশের অন্যতম গণমাধ্যম প্রথম আলোর জরিপে উঠে এসেছে, বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দল এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি বড় ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থেকে উত্তরণে তারেক রহমান আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোকবর্তিকা হতে পারেন।

একজন রাজনৈতিকভাবে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমিও মনে করি, দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধান, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এক্ষেত্রে বড় দলের বড় নেতা হিসেবে তারেক রহমান হতে পারেন আশার প্রতীক।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি দেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরের ইতিহাসে গত ১৭ বছর বিএনপি সবচেয়ে বেশি সংকটকাল অতিক্রম করেছে। সব মতভেদ ও বিরোধ ভুলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিতে হবে।

দেশের উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশেরও বেশি বর্তমানে বেকার। বিপুল এই জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ এখনই নিতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়- দুই বেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে চায়। এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা খুবই সাধারণ। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার লোভ বারবার দেশকে সংকটে ফেলেছে।

আর নয় রাজনৈতিক সহিংসতা। আর কত রাজনৈতিক অরাজকতায় মানুষের প্রাণ যাবে? এই প্রশ্ন আজ দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারণ সচেতন জনগণের কণ্ঠেও উচ্চারিত হচ্ছে। একটি সুন্দর, স্বনির্ভর, আধিপত্যবাদমুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে মুক্ত নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় মানুষ তাকিয়ে আছে- তারেক রহমানের ঘোষিত ভবিষ্যৎ ভাবনার দিকে।

 

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এ্যানেল
কলাম লেখক ও সমাজচিন্তক
প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।

Link copied!