ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আস্থার বিজয়, দায়িত্বের শুরু

আসাদুজ্জামান তপন
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জনগণ যে আস্থা ও দায়িত্ব বিএনপির ওপর অর্পণ করেছে, তা নিঃসন্দেহে গৌরবের পাশাপাশি এক বিশাল দায়িত্বও বটে। বিএনপির এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন।

নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের সেই আস্থাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দেওয়া। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় কার্যকর সংস্কার আনয়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার সুযোগ এখন বিএনপির হাতে। জনগণ চায় এমন একটি সরকার, যা দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের কল্যাণে কাজ করবে এবং জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নও নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, কৃষি ও শিল্প খাতের আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও সুস্থ জনগোষ্ঠীই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি।

পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন এখন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, নারীর ক্ষমতায়ন, যুবসমাজের উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নবনির্বাচিত সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করা সম্ভব। বিশ্বে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে দেশকে একটি দায়িত্বশীল ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ এখন উপস্থিত।

সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে সফলতার চাবিকাঠি। জনগণের মতামত ও সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার প্রদর্শন করলেই একটি সফল ও জনমুখী সরকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি সকলের প্রত্যাশা—তারা সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে অবিচল থাকবেন। বিএনপির নেতৃত্বে দেশ শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির নতুন উচ্চতায় পৌঁছোবে।