ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

দিনের আলোয় সশস্ত্র চাঁদাবাজির দুঃসাহস

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
এআই দিয়ে বনানো ছবি।

বিংশ শতাব্দীর রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ম্যাক্স ভেবার রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, রাষ্ট্র হলো এমন এক মানবিক প্রতিষ্ঠান যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে বৈধ সহিংসতার একচেটিয়া অধিকার (Monopoly of the legitimate use of physical force) দাবি করে। সহজ কথায়, নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং অপরাধীকে দমন করার চূড়ান্ত শক্তি ও বৈধতা কেবল রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে। কিন্তু যখন কোনো স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের সেই একচেটিয়া কর্তৃত্বকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে, খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালায়, কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এবং রাজকোষের সমান্তরালে নিজস্ব 'মাফিয়া কর' ব্যবস্থা চালু করে, তখন ভেবারের সেই তত্ত্ব গভীর সংকটের মুখে পড়ে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি চট্টগ্রামে দিনের আলোয় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যে নজিরবিহীন ও দুঃসাহসিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্বের ওপর এক চরম আঘাত। যখন প্রকাশ্যে কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ১৫-২০ জনের একটি দল একটি করপোরেট অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়, তখন প্রশ্ন জাগে—আমরা কি একটি নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাস করছি, নাকি কোনো আদিম 'বন্য সমাজে' প্রত্যাবর্তন করছি?

চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি যেকোনো সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একদল যুবক অবলীলায় অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করছে, কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে এবং ক্যাশ থেকে কর্মচারীদের বেতনের ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এই দৃশ্য কোনো সিনেমার স্ক্রিপ্ট নয়, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরের বাস্তব চিত্র।

এই হামলার নেপথ্যের কারণ আরও ভয়াবহ। ব্যবসা সচল রাখতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে—এই মধ্যযুগীয় ‘জিজিয়া কর’-এর মতো ফতোয়া জারি করেছে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেন ইমন। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সন্ত্রাসী মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার সময় নিজেকে পুলিশ কমিশনারের চেয়েও ক্ষমতাবান হিসেবে জাহির করে এবং তার ছবি পুলিশ প্রশাসনকে দেখিয়ে চিনে নেওয়ার দুঃসাহস দেখায়।

একটি রাষ্ট্রে অপরাধীর এই পর্যায়ের আস্ফালন তখনই সম্ভব, যখন সে নিশ্চিত থাকে যে রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা বা অপরাধ দমন শাখা তার টিকিও ছুঁতে পারবে না। এটি সরাসরি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক মেরুদণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। যখন একজন সন্ত্রাসী প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশি পাহারাকে বুড়ো আঙুল দেখাতে পারে, তখন বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনস্তাত্ত্বিক পরাজয় ঘটেছে অথবা অপরাধচক্রের সাথে প্রশাসনের ভেতরের কোনো অংশের এক ধরনের অদৃশ্য আপস রফা রয়েছে।

এই ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এর আগে ২ জানুয়ারিও একই বাসায় হামলা হয়েছিল এবং তার পর থেকেই সেখানে রাষ্ট্রীয় পুলিশ মোতায়েন ছিল। ভাবা যায়? রাষ্ট্রের পুলিশ যে বাড়িটি পাহারা দিচ্ছে, সেই বাড়িতেই সন্ত্রাসীরা পুনরায় এসে গুলি চালিয়ে যাচ্ছে!

এটি রাষ্ট্রের জন্য এক চরম অবমাননাকর পরিস্থিতি। যেখানে রাষ্ট্রের খোদ পুলিশ বাহিনী নিজের উপস্থিতির মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না, সেখানে সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা কোথায়? স্মার্ট গ্রুপের মতো একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর যদি এই দশা হয়, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অবস্থা কতটা শোচনীয়, তা সহজেই অনুমেয়। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা এখন আর রাষ্ট্রকে ভয় পায় না, বরং রাষ্ট্রই যেন অপরাধীদের তাণ্ডবের সামনে এক প্রকার অসহায় বা নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষায়, একটি রাষ্ট্র যখন তার ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে এবং অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলো (Non-state actors) যখন সমান্তরাল শাসনকাঠামো গড়ে তোলে, তখন সেই রাষ্ট্রকে 'Fragile State' বা ভঙ্গুর রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হতে দেখা যায়। ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে যেমন মেদেলিন বা সিনালোয়া কার্টেলরা সমান্তরাল সরকার চালায়, চট্টগ্রামের এই পরিস্থিতি কি আমাদের সেই সর্বনাশা পথের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে বসে প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশে তার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। দেশে তার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হানের মতো দুর্ধর্ষ অপরাধীরা, যাদের বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির ডজনখানেক মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্যমতেই, ইমনের কাছে অন্তত ১৫-২০টি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং তার অধীনে অন্তত ৫০ জন শুটার সক্রিয়।

আন্তর্জাতিক মানের একটি শাসনব্যবস্থায় এটি ভাবাই যায় না। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র কীভাবে তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতখানি ব্যর্থ হতে পারে যে, দেশের বাইরে বসে একজন অপরাধী দেশের ভেতরের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ জিম্মি করে ফেলবে? বিশ্বায়নের এই যুগে অপরাধের আন্তর্জাতিকীকরণ (Transnational Crime) ঠেকানোর জন্য যে ধরনের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স এবং আন্তর্জাতিক আইনি তৎপরতা (যেমন ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ বা বহিঃসমর্পণ চুক্তি বাস্তবায়নে জোরালো চাপ) প্রয়োজন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তার তীব্র ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

চট্টগ্রামের এই দৃশ্যপটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে বাংলাদেশের বর্তমান সার্বিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি মাত্র। দেশজুড়ে আজ যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি (Culture of Impunity) জেঁকে বসেছে, তারই স্বাভাবিক পরিণতি এই দিনের আলোয় চাঁদাবাজি।

বাংলাদেশে অপরাধীরা কখনোই একা বড় হতে পারে না। প্রতিটি বড় সন্ত্রাসীর পেছনে কোনো না কোনো রাজনৈতিক গডফাদার বা প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদ থাকে। পুলিশ কর্মকর্তারা প্রায়শই বলেন যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে শুধু সন্ত্রাসীদের হাতবদল হয়, অপরাধের চেইন অব কমান্ড একই থাকে।

বাস্তবতা হচ্ছে, নাগরিকরা এখন থানায় যেতে ভয় পায়, কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিযোগ করার পর উল্টো সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলার মাত্রা বেড়ে যায়।

চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক সশস্ত্র চাঁদাবাজির ঘটনা শুধু অপরাধীদের দুঃসাহসের পরিচয় নয়, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বের নৈতিক শক্তিকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, "অপরাধীর কোনো দল, মত বা পরিচয় নেই।" এই একটি বাক্যই আইনের শাসনের প্রকৃত দর্শন তুলে ধরে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় শক্তি অস্ত্র নয়; তার সততা, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিক সাহস।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন দৃঢ় উচ্চারণ সচরাচর শোনা যায় না। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে তাকে সৎ, পেশাদার ও আপসহীন কর্মকর্তা হিসেবেই দেখেছি। জনপরিসরেও তাঁর সম্পর্কে এমন ধারণাই প্রচলিত। ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজধানীতে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান তৎপরতা ও কঠোর অবস্থান অনেকের নজর কেড়েছে।

এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে—এমন নৈতিক নেতৃত্ব কি দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ ইউনিটে রয়েছে? যদি কোথাও দায়িত্বহীনতা, দুর্নীতি বা অপরাধীদের সঙ্গে আপসের সংস্কৃতি জায়গা করে নেয়, তাহলে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনাই তার একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ।

রাষ্ট্রের উচিত পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্ব নির্বাচনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ের চেয়ে সততা, নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। কারণ আইনের চোখে অপরাধীর একটাই পরিচয়—সে অপরাধী।

বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল পার করছে, যেখানে ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মে অর্থনীতি এমনিতেই জর্জরিত। এর ওপর যদি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কুড়াল নিয়ে হামলা চালানো হয়, তবে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের দেশি বা বিদেশি উদ্যোক্তা এমন এক অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ পরিবেশে পুঁজি বিনিয়োগ করবেন না। ফলে কর্মসংস্থান কমবে এবং পুঁজিপাচার আরও ত্বরান্বিত হবে।

আমরা যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের সমসাময়িক অর্থনীতির দেশগুলোর দিকে তাকাই, তবে দেখব যে ভিয়েতনাম, ভারত বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো তাদের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক খাতকে সুরক্ষিত রাখতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে। ভারতে একসময় মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের দাপট ছিল, কিন্তু রাষ্ট্র কঠোর 'এনকাউন্টার' নীতি এবং সুনির্দিষ্ট আইনি সংস্কারের (যেমন MCOCA) মাধ্যমে সেই মাফিয়াতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে আমরা দেখছি, আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাব এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা জামিনে বা কারাগারের ভেতরে থেকেও দিব্যি তাদের গ্যাং পরিচালনা করছে। সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থেকেও তার সহযোগীদের মাধ্যমে বাইরে চাঁদাবাজি সচল রেখেছে—এটি আমাদের কারা কর্তৃপক্ষের সততা ও সক্ষমতাকেও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

চট্টগ্রামের এই চাঁদাবাজির দুঃসাহস রাষ্ট্রের জন্য কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা (Wake-up Call)। রাষ্ট্র যদি এখনই এর বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা না নেয়, তবে আগামী দিনে দেশের অন্য প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোও একইভাবে মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রকে অবিলম্বে কিছু দৃশ্যমান ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

১.চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সক্রিয় অস্ত্রধারী শুটার ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

২.সাজ্জাদ আলীর মতো বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে কার্যকর রেড নোটিশ জারি এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

৩. বাণিজ্যিক এলাকাগুলোকে সম্পূর্ণ সিসিটিভি নজরদারির আওতায় এনে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করতে হবে এবং দ্রুত সাড়াদানকারী বিশেষ পুলিশ টিম (Quick Response Team) গঠন করতে হবে।

৪.ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে 'সাক্ষী সুরক্ষা আইন' (Witness Protection Act) বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে নাগরিকরা নির্ভয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন।

৫.কারাগারের ভেতর থেকে মোবাইল বা অন্যান্য মাধ্যমে যাতে সন্ত্রাসীরা বাইরের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেজন্য কারা প্রশাসনে কঠোর শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে এবং জ্যামার প্রযুক্তির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়,একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রের আইনের ওপর আস্থা রেখে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন। কিন্তু যখন রাষ্ট্রের নাকের ডগায় সন্ত্রাসীরা কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে কুড়াল দিয়ে অফিস ভাঙচুর করে, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আইনের শাসন গুরুতরভাবে হুমকির মুখে।

চট্টগ্রামের এই ঘটনাটি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। আমরা কি বাংলাদেশকে একটি শান্তিকামী, প্রগতিশীল এবং উন্নত অর্থনৈতিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলব, নাকি অপরাধী ও মাফিয়াদের অভয়ারণ্য হতে দেব—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই। রাষ্ট্রকে তার নরম নীতি পরিহার করে ভেবারের সেই 'বৈধ সহিংসতার একচেটিয়া অধিকার' প্রয়োগের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে, আইনের চেয়ে বড় কোনো শক্তি এই ভূখণ্ডে নেই। অন্যথায়, আজ যদি রাষ্ট্র নীরব থাকে, তবে আগামীকাল এই নীরবতার মূল্য দিতে হবে পুরো জাতিকে।

লেখক: আহসান হাবিব বরুন
সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।