কুমড়ো ফুলে-ফুলে,
নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র কবিতার লাইনগুলোর মতো হয়তো প্রাণ কাঁদছে তার হাসপাতালের বেডে শুয়ে। বলছি দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা। যিনি গত ২৩ নভেম্বর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গেলে বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং তাকে ভর্তি করা হয়।
সাবেক তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রী অন্যবারের তুলনায় এবার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়- বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
তার খোঁজ নিতে গত কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
এমতাবস্থায় গতকাল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে- খালেদা জিয়া ‘খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ চলে গেছেন বলার পর থেকেই দলটির নেতাকর্মীসহ সারাদেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে।
ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় তার চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে চীন থেকে ৫ সদস্যের একটি চিকিৎসক টিম এসেছে। দল থেকে আরও জানানো হয়েছে, আজ মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর থেকে আরও চিকিৎসক দল দেশে আসতে পারে এবং নেত্রীর চিকিৎসা সঙ্গী হতে পারে।
অন্যদিকে শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্নের মধ্যেও গতকাল রাতে বাংলাদেশ সরকার খালেদা জিয়াকে দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
তবে প্রশ্ন এখন শুধু খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নয়। প্রশ্ন উঠেছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে- গত নভেম্বরে দেশে ফেরার কথা থাকলেও তিনি এখনো দেশে ফেরেননি।
ঠিক কবে দেশে ফিরবেন এ নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে দলটির কিছু কিছু নেতাকর্মীও। নাম জানাতে অনিচ্ছুক কয়েকজনের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তার দেশে ফেরা উচিত। যেহেতু তার আম্মা অসুস্থ এই পরিপ্রেক্ষিতে তার দেশে ফেরা উচিত।
কবে দেশে ফিরবেন জানতে চাইলে তারা বলেন, ঠিক কবে দেশে ফিরবেন তা এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এসব রহস্যময় আর অসুস্থতার মধ্যে গতকাল দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন।
তবে কবে দেশে ফিরবে এ বিষয়ে বিএনপির এই নেতা এখনো কোনো সঠিক বার্তা দেননি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আসার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না? সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তিনি শিগগিরই দেশে আসবেন, ইনশাহআল্লাহ।’
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি দেশে ফিরতে চান, তবে সরকার এক দিনের মধ্যেই তার জন্য ট্রাভেল পাস দেবে।
যদিও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি ট্রাভেল পাস নয়, নতুন বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েই ফিরতে চান।
তবে বেগম জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার বিষয়টি ধোঁয়া সৃষ্টি হলেও বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তারা আরও জানিয়েছে, চীন একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দিতে সম্মত হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাকে চীনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে পরিবার, বিশেষ করে তারেক রহমান- বেগম জিয়াকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে চিকিৎসা দিতে চান। তিনি লন্ডনে বসেই দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মায়ের চিকিৎসা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র মনে করছেন, খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয় হিসেবে তারেক রহমানও এসএসএফ নিরাপত্তার আওতায় আসতে পারেন। তবে চিকিৎসকরা যদি মনে করেন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়াই সর্বোত্তম, তাহলে তারেক রহমানের আপাতত ঢাকায় ফেরার প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বসবাস করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে যদি তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফেরেন তাহলে ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখবেন তিনি।

