জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তারা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চান না, কেবল ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। তার অভিযোগ, আলোচিত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যায়বিচার করা হয়নি এবং একটি মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর মরকুন টেকপাড়া চৌরঙ্গীপাড় এলাকায় জামিনে মুক্তি পাওয়া তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বাসায় তাকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “তাহরিমা জান্নাত সুরভী কোনো নাগরিক সুবিধা পাননি। তার সঙ্গে কোনো ন্যায়বিচার করা হয়নি। একটি মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে প্রশাসন যেন তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অবস্থান না নেয় এই দাবি জানাচ্ছি।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গণআন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কাউকে হয়রানি করা হলে তা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিককে আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, দেশের মিডিয়া হাউজগুলো সরাসরি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন এবং একটি পক্ষকে বিজয়ী করার জন্য প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দল ও আন্দোলনের ভেতরে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি এ বিষয়ে ছাত্র-জনতা ও আন্দোলনের কর্মীদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, তাহরিমা আক্তার সুরভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও এই গভীর ষড়যন্ত্রেরই ধারাবাহিকতা।

জানা গেছে, এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তাহরিমা জান্নাত সুরভীর নামে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। ওই মামলায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ তাহরিমা জান্নাত সুরভীর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গাজীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহাদী পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আদেশ ঘোষণার পরপরই আদালতপাড়ায় ‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা সুরভীর নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পরবর্তীতে আদালতের দেওয়া দুই দিনের রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করেন তাহরিমা জান্নাত সুরভীর আইনজীবী রাশেদ ইসলাম রবি।
শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির বয়স, মামলার প্রকৃতি ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রিমান্ড আদেশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হয়।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বাসায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাকে দেখতে যান। এ সময় তারা সুরভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকে হয়রানিমূলক উল্লেখ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন