ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এনপিএ’র আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জনগণপন্থি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় দলটি।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করা হয়।

‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা প্ল্যাটফর্মটি পাঁচটি মূলনীতি এবং সাতটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশের সুরক্ষাকে তারা তাদের মূলমন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এনপিএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিদ্যমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত করে তুলেছে। এর ফলে জনগণের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদ আহরণের অংশীদার হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তরের উদ্যোগ নেবে প্ল্যাটফর্মটি।

প্ল্যাটফর্মটির ঘোষণায় আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের কার্যকর ও পূর্ণ পৃথকীকরণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় প্রভাবমুক্ত স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে এনপিএ। তাদের লক্ষ্য স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পশ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রগতিশীল করব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বৈষম্য হ্রাস এবং রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়।

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে প্ল্যাটফর্মটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্প প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নদী দখল, বন উজাড়, দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়।

এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনপিএ জানায়, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবে। মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা একাংশ সদস্য এবং বিভিন্ন বামপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকটিভিস্টদের নিয়ে এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮টির বেশি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।