ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভোটে নির্ধারিত হবে দেশ সামনে এগিয়ে যাবে, নাকি পিছিয়ে পড়বে : সারজিস

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনি জোট থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে, নাকি আবার পেছনের দিকে ফিরে যাবে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে। সেই অভ্যুত্থান ছিল অন্যায়, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের জাগরণ। এখন ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে সেই আন্দোলনের চেতনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার দ্বিতীয় ধাপ। এই ভোটই বলে দেবে দেশ ২০২৬ সালের পর কোন পথে হাঁটবে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে কি না, দখলদারদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে কি না এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে যারা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তাদের রাজনীতির অবসান ঘটবে কি না। যারা মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়, হুমকি দেয় এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রায় দিতে হবে।

সারজিস আলম বলেন, দেশে এমন অনেক রাজনীতিবিদ আছে, যারা দিনের বেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে, অথচ রাতের আঁধারে মাদক ব্যবসা থেকে সুবিধা নেয়। একইভাবে কেউ কেউ শিক্ষার উন্নয়নের কথা বললেও গোপনে নিজেদের দলীয় চাটুকারদের দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পরিকল্পনা করে। তিনি বলেন, এ ধরনের দ্বিচারী রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করাই হবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

এনসিপি নেতা নির্বাচনের আগে কিছুদিন জনদরদি সেজে থাকার পর নির্বাচনের পরে জনগণের কাছে উধাও হয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদেরও সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি এমন রাজনীতির বিরোধিতা করেন যেখানে শ্রমিকের সন্তান সারাজীবন শ্রমিকই থেকে যায়, অথচ ক্ষমতাবানদের সন্তানরা বিদেশে বিলাসী জীবন যাপন করে। তার মতে, প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে এই বৈষম্যমূলক রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে।

নিরপেক্ষ প্রশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, কিছু মানুষ প্রকাশ্যে নিরপেক্ষতার কথা বললেও আড়ালে প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর এই ধরনের ভণ্ডামি মেনে নেবে না। এই নির্বাচন হবে প্রশাসনিক অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেও একটি গণরায়।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার আল্লাহতায়ালা দেশবাসীকে এমন একটি বড় সুযোগ দিয়েছেন। আগামী পঞ্চাশ বছরেও এমন সুযোগ আসবে কি না, তা অনিশ্চিত। এই সুযোগ একটি আমানত, আর এই আমানতের খেয়ানত করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া—দেশের এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে একটাই ধ্বনি উঠবে, একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১০ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. সফিউল আলম (সফিউল্লাহ সুফি) এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।