ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ভোটের মাঠে ধরাশায়ী জাপা 

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
জাতীয় পার্টি লোগো। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে নজিরবিহীন ভরাডুবি হয়েছে জাতীয় পার্টির। ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিয়ে একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা। 

জাতীয় পার্টির জন্য এবারের নির্বাচনটি কেবল পরাজয় নয়, বরং একটি অস্তিত্বসংকটের নামান্তর। দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মৃতিবিজড়িত 'দুর্গ' রংপুর অঞ্চলেও এই শোচনীয় ভরাডুবি দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে। জামায়াত জোটের অভূতপূর্ব উত্থান এবং দলের শীর্ষ নেতাদের তৃতীয় স্থানে নেমে আসা, নিশ্চিতভাবেই জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের কৌশলগত ব্যর্থতার ফসল।

রংপুর-৩ আসনটি ছিল জাতীয় পার্টির রাজনীতির প্রতীক। অথচ এবার সেখানে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের জামায়াত এবং বিএনপি—উভয় প্রার্থীর চেয়ে অনেক কম ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। একই দশা হয়েছে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীরও।

রংপুর-৩ আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন  ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। অন্যদিকে  জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ভোট।

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার ফলে জাতীয় পার্টি ভোটারদের কাছে তার নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় হারিয়ে ফেলেছে। সাধারণ মানুষের কাছে দলটিকে আর কোনো কার্যকর বিকল্প মনে হয়নি। যার ফলে ভেঙে পড়েছে  জাতীয় পার্টি ভোটব্যাংক ।

কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনের দিন চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া এবং ভোটার বা দলের কর্মীদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখায়  জাতীয় পার্টির পরাজয় ঘটেছে। এই অনুপস্থিতি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে এবং দলের প্রচারণাকে অকার্যকর করে ফেলেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ৩৫টি আসন থেকে যাত্রা শুরু করে জাতীয় পার্টি। ২০২৪ সালের ১১টি আসনের পর, এবারের নির্বাচনে ১৯৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও খাতা খুলতে না পারা দলটির সাংগঠনিক পতনের চরম রূপ।