বগুড়া ও শেরপুরের দুটি আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, ভোট কারচুপি এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনঃভোটের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রদান, এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া এবং ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
গোলাম পরওয়ার জানান, বগুড়ার মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ একাধিক কেন্দ্রে সকালেই এজেন্টদের দিয়ে ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরবর্তীতে এসব কেন্দ্রে জালভোট দেওয়া হয়েছে এবং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শেরপুরের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত অন্তত ১৩টি কেন্দ্রে জোর করে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং জালভোট প্রদান করা হয়েছে। ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে জালভোট প্রতিরোধ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে এবং জামায়াতের এক কর্মীকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, শেরপুরের শ্রীবরদীতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে ওই এলাকায় দলীয় এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা দলীয় নেতারা বারবার পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে সশস্ত্র গ্রুপ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং বিশেষ করে নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা একটি বড় রাজনৈতিক দলের অধীনে প্রথম উপনির্বাচনেই যদি এমন চিত্র দেখা যায়, তাহলে ভবিষ্যতের নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে অবিলম্বে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনঃভোটের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ এ ধরনের একতরফা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ দলটির অন্যান্য নেতারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন