দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে প্রিয় জন্মভূমির মাটিতে পা রেখেই এক আবেগঘন মুহূর্তের অবতারণা করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই তিনি প্রথমে খালি পায়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন এবং পরম মমতায় হাত দিয়ে একমুঠো মাটি তুলে নেন। দীর্ঘ দেড় যুগের প্রতীক্ষার পর মাটির এই স্পর্শ উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে এক আবেগপ্রবণ পরিবেশ তৈরি করে।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমান তার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা একটি লাল রঙের সুরক্ষিত বাসে চড়েন। বাসের দুই পাশে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিশালাকার প্রতিকৃতি অঙ্কিত রয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাসের জানালাগুলো বিশেষ বুলেটপ্রুফ বা গুলিনিরোধক কাচ দিয়ে আবৃত করা হয়েছে।
বাসের গায়ে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে তার বিখ্যাত স্লোগান—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান এখন এই বাসে চড়েই সরাসরি রওনা হয়েছেন পূর্বাচলের ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) সংলগ্ন গণসংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশে। সেখানে সমবেত লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি তার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ভাষণ দেবেন।
ভাষণ শেষে তার পরবর্তী গন্তব্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসাধীন তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন। মা-ছেলের এই পুনর্মিলন শেষে তিনি গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরের বাইরের সড়কে নেতাকর্মীদের যে অভূতপূর্ব ভিড় তৈরি হয়েছে, তাতে বাসটি অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। পুরো এলাকা এখন ‘তারেক রহমানময়’ এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

